মনজু হোসেন,স্টাফ রিপোর্টার::পঞ্চগড় সদর উপজেলায় খেতে ভুট্টা ভাঙার কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে তিন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (৪ জুন) সকালে উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নের ফকিরের হাট বেংহাড়িপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ হিল জামান বলেন, আজকে সকালে ভুট্টাখেতে কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তিনজন গুরুতর আহত হন। এর মধ্যে একজন ঘটনাস্থলে মৃত্যুবরণ করেন। আর বাকি দুইজন হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। এ সংক্রান্ত আমরা অপমৃত্যু মামলা নিচ্ছি এবং তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ওই ভুট্টাখেতের উপর দিয়ে চলে গেছে বিদ্যুতের তার। একটি তার ছিড়ে নিচে পড়েছিল। ১৪ জনের একটি শ্রমিক দল ওই জমিতে ভুট্টা ভাঙার কাজ করছিলেন। হঠাৎ ওই লাইনে বিদ্যুৎ সরবরাহ হলে তারের কাছাকাছি থাকা শ্রমিকরা বিদ্যুতায়িত হয়ে পড়েন। ঘটনাস্থলেই মারা যান ওই এলাকার শ্রমিক জামিদুল ইসলাম। আহত অবস্থায় শ্রমিক রব্বানি, শাহিন আলম ও জয় ইসলামকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রব্বানি ও শাহিনকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত জয়কে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

নিহতরা হলেন—ওই এলাকার সফিজুল ইসলামের ছেলে জামিদুল ইসলাম (২৩), শফিউল ইসলামের ছেলে রব্বানি (৩২), লিয়াকত আলীর ছেলে শাহিন আলম (৩৫)। এ সময় আহত হয়েছেন সফিজুল ইসলামের আরেক ছেলে জয় ইসলাম (৩০)।
আহত জয় ইসলাম বলেন, বিদ্যুতের তারটি খেতেই পড়েছিল। তখন বিদ্যুত ছিল না। হঠাৎ আমার পা ঝিনঝিন করছিল। অন্যরাও বিদ্যুতায়ীত হয়েছিলেন। আমি দৌড়ে এসে বারবার বিদ্যুৎ অফিসে ফোন দিই। কিন্তু তারা ফোন ধরেননি। পরে অনেকেই ফোন দেন। এক পর্যায়ে বিদ্যুৎ বন্ধ করা হলে আমাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। আমার ভাই শাহীন ইসলাম সেখানেই ছটফট করছিলেন।

পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আবুল কাশেম বলেন, সকাল ১০টায় পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া তিনজনকে নিয়ে আসেন। এর মধ্যে রব্বানি ও শাহিন আলম নামে দুইজনকে মৃত অবস্থায় নিয়ে আসা হয়েছে। আহত জয় ইসলামকে আমরা উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেছি।
Leave a Reply